কয়রা উপজেলায় বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। চলতি সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ২০ দিনেই কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৩৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৩০ জন পুরুষ ও আটজন নারী। আক্রান্তদের মধ্যে পাঁচ বছরের কম বয়সী দুই শিশুও রয়েছে। এর আগে আগস্ট মাসে একই হাসপাতালে ১৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছিলেন।
ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের নানা ভোগান্তির অভিযোগও পাওয়া গেছে। রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জ¦র ও ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিনই অনেকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যাচ্ছেন।
মহারাজপুর ইউনিয়নের পশ্চিম দেয়াড়া গ্রামের সোহেল পাঁচ দিন আগে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। তাঁর মা অভিযোগ করে বলেন, “হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক একটি বেসরকারি হাসপাতালের নাম উল্লেখ করে সেখানে পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিয়েছেন।”
আমাদী খেওয়া গ্রামের মারজুন সরদার গত ১৪ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে ভর্তি হন। তাঁর স্ত্রী বলেন, “ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে করাতে শেষ। প্রতিদিন টেস্ট করার জন্য হাসপাতালের সামনে বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হয়। একই পরীক্ষা জায়গির মহল ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকে ১ হাজার টাকা নিলেও ডক্টরস ক্লিনিকে ৪০০ টাকা নেয়। আমরা গরিব মানুষ, অত শত বুঝি না।”
মদিনাবাদ গ্রামের রোগী আশরাফুল বলেন, “পাঁচ দিন ধরে জ¦রে ভুগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শয্যা সংকটের কারণে ফ্লোরে থাকতে হচ্ছে। প্রায়ই বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে কষ্ট হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর প্লাটিলেটও কমে যাচ্ছে।”
আরেক রোগী জানান, “হাসপাতালে প্রায় সময় বিদ্যুৎ থাকে না। খাওয়ার পানিরও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। বাইরে থেকে পানি কিনে খেতে হচ্ছে। বিভিন্ন পরীক্ষা করাতেও বাইরে যেতে হচ্ছে।” তাঁর প্লাটিলেট ৪৯ হাজারে নেমে গেছে বলে জানান তিনি। দিনমজুরের কাজ করা ওই রোগী বলেন, “বাইরে থেকে পরীক্ষা করানো ও পানি কেনার খরচ জোগাড় করতে তাঁকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।”
এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, “ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।”
কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেজাউল করিম বলেন, “হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পুরুষ ও নারী রোগীদের আলাদা শয্যা নির্ধারিত রয়েছে। জ¦রের রোগীদের পরীক্ষার জন্য ঘঝ ১ টেস্টের কিট রয়েছে এবং বিনামূল্যে পরীক্ষা করা হচ্ছে। আইভি স্যালাইনও পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে। হাসপাতালের সব রোগীর জন্য মশারি দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “মাঠপর্যায়ে গণসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য স্বাস্থ্যকর্মীরা আলোচনা ও উঠান বৈঠক করছেন। পাশাপাশি হাসপাতালের সার্বিক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও নিয়মিত পরিচালনা করা হচ্ছে।”
ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ আরও কার্যকর করার পাশাপাশি রোগীদের ভোগান্তি কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
খুলনা গেজেট/এনএম

